ব্যাংক লোনে গ্যারান্টার কেন লাগে ও কী দায়িত্ব

ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে অনেক সময় ঋণগ্রহীতাকে একজন গ্যারান্টার দিতে বলা হয়। পরিচিত কেউ গ্যারান্টার হতে অনুরোধ করলে অনেকে সম্পর্কের কথা ভেবে রাজি হয়ে যান। কিন্তু গ্যারান্টার হওয়া শুধু কারও পরিচয় নিশ্চিত করা নয়; এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যের ঋণ পরিশোধের আইনগত দায় গ্রহণ করা। তাই স্বাক্ষরের আগে এর অর্থ বোঝা জরুরি।

বিশেষ করে ব্যক্তিগত ঋণ, ব্যবসায়িক ঋণ কিংবা অন্য কোনো ঋণসুবিধায় গ্যারান্টারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঋণগ্রহীতা নিয়মিত কিস্তি দিলে সাধারণত গ্যারান্টারকে টাকা দিতে হয় না। সমস্যা তৈরি হয় যখন ঋণগ্রহীতা চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। তখন ব্যাংকের কাছে গ্যারান্টারের দায় কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা অভিন্ন ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ফরমের আলোকে এখানে গ্যারান্টার কেন লাগে, তাঁর দায় কতটা, কী অধিকার রয়েছে এবং স্বাক্ষরের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। নির্দিষ্ট ঋণ বা গ্যারান্টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের স্বাক্ষরিত দলিল এবং প্রযোজ্য আইন যাচাই করুন; প্রয়োজন হলে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

Table of Contents

ব্যাংক লোনে গ্যারান্টার বলতে কী বোঝায়?

গ্যারান্টার হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তি অনুযায়ী সেই দায় পূরণের নিশ্চয়তা দেন। চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ১২৬ ধারায় এ ধরনের নিশ্চয়তার ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে ঋণগ্রহীতা প্রধান দেনাদার, ব্যাংক পাওনাদার এবং নিশ্চয়তা প্রদানকারী ব্যক্তি গ্যারান্টার। তিনি ঋণের টাকা নিজে গ্রহণ না করলেও আইনগত দায়ে জড়াতে পারেন।

ব্যাংক কেন গ্যারান্টার চায়?

ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংক আবেদনকারীর আয়, বিদ্যমান ঋণ, পরিশোধের সক্ষমতা এবং অন্যান্য তথ্য মূল্যায়ন করে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিশ্চয়তার প্রয়োজন মনে হলে গ্যারান্টার চাওয়া হয়। এতে ঋণগ্রহীতা ব্যর্থ হলে ব্যাংকের পাওনা আদায়ের আরেকটি আইনগত পথ থাকে। তবে গ্যারান্টার থাকলেই ঋণ অনুমোদন নিশ্চিত হয় না; ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়ন ও প্রযোজ্য নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ।

সব ব্যাংক ঋণে কি গ্যারান্টার বাধ্যতামূলক?

না, সব ঋণে একইভাবে ব্যক্তিগত গ্যারান্টার আবশ্যক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ঋণের ধরন, ঝুঁকি, জামানত এবং ব্যাংকের নীতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ জানুয়ারি ২০২৬ এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ প্রদানে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণের প্রয়োজন হলে নির্ধারিত অভিন্ন ফরম ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ নির্দেশনাটি প্রতিটি ঋণের জন্য নতুন করে গ্যারান্টার বাধ্যতামূলক করেনি।

গ্যারান্টার ও জামানতদাতার মধ্যে পার্থক্য

গ্যারান্টার ব্যক্তিগতভাবে ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেন। অন্যদিকে তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা নির্দিষ্ট সম্পত্তি ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে বন্ধক রাখতে পারেন। কেউ একই ঋণে উভয় ভূমিকায় থাকতে পারেন, কিন্তু দুটি ভূমিকার আইনগত ভিত্তি এক নয়। শুধু পরিচয়দাতা বা সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করাও গ্যারান্টার হওয়ার সমান নয়। তাই কাগজে নিজের পরিচয় কীভাবে লেখা আছে, তা দেখে নেওয়া অপরিহার্য।

গ্যারান্টারের দায় সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন কী বলে?

চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ১২৮ ধারা অনুযায়ী, চুক্তিতে ভিন্ন ব্যবস্থা না থাকলে গ্যারান্টারের দায় প্রধান ঋণগ্রহীতার দায়ের সমপরিসরের। এর অর্থ শুধু আসল টাকা নয়, প্রযোজ্য সুদ ও চুক্তিসংগত খরচও দায়ের মধ্যে আসতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ঋণে কত টাকা দাবি করা যাবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টি দলিল, ঋণচুক্তি এবং আইন একসঙ্গে দেখতে হবে।

২০২৬ সালের অভিন্ন গ্যারান্টি ফরমে কী পরিবর্তন এসেছে?

বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য অভিন্ন ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ফরম চালু করে। বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে অমিল হলে বাংলা সংস্করণ প্রাধান্য পাবে। ফরমে বলা আছে, প্রধান দেনাদার খেলাপি হলে ব্যাংকের প্রথম দাবির নোটিশ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে বকেয়া ঋণ, প্রযোজ্য সুদ ও নির্ধারিত খরচ পরিশোধের অঙ্গীকার করেন গ্যারান্টার। ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হলে গ্যারান্টি শেষ হওয়া এবং ব্যাংক ও গ্যারান্টারের লিখিত সমঝোতায় তা বাতিলের ব্যবস্থাও ফরমে রয়েছে। নিজের স্বাক্ষরিত দলিল দেখে দায়ের শর্ত নিশ্চিত করতে হবে।

গ্যারান্টারের প্রধান দায়িত্ব কী কী?

গ্যারান্টার হিসেবে স্বাক্ষর করার আগে ঋণ ও নিশ্চয়তার শর্ত বুঝে সঠিক তথ্য দিতে হবে। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে ব্যাংকের দাবির নোটিশ গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। বকেয়া বা দাবির পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নথি সংগ্রহ করে ব্যাংকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। ঋণের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ রাখা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা; প্রতিটি কিস্তি নিজে জমা দেওয়া গ্যারান্টারের নিয়মিত কাজ নয়।

ঋণগ্রহীতা কিস্তি না দিলে কী হতে পারে?

কিস্তি বাকি পড়লে ব্যাংক ঋণগ্রহীতার কাছে পাওনা চাইতে পারে। ঋণগ্রহীতা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টি দলিলের শর্তে গ্যারান্টারের কাছেও দাবি জানাতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের অভিন্ন ফরমে ব্যাংকের প্রথম দাবির নোটিশ পাওয়ার পর সাত কর্মদিবসের শর্ত রয়েছে। নোটিশের বৈধতা, দাবিকৃত অর্থ ও নিজের স্বাক্ষরিত দলিল যাচাই করা জরুরি; প্রয়োজনে দ্রুত আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

গ্যারান্টারের সম্পত্তির ওপর কি প্রভাব পড়তে পারে?

অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৬(৫) ধারা অনুযায়ী, ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টারকে ঋণ আদায়ের মামলায় বিবাদী করতে হয়। আদালতের ডিক্রি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ও পৃথকভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে ডিক্রি বাস্তবায়নে আদালত যতদূর সম্ভব প্রথমে মূল ঋণগ্রহীতার, এরপর তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতার এবং শেষে গ্যারান্টারের সম্পত্তির দিকে অগ্রসর হয়। তাই গ্যারান্টার হলেই ব্যাংক সরাসরি তাঁর সব সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে, এমন নয়।

গ্যারান্টারের কী কী অধিকার আছে?

গ্যারান্টারের শুধু দায়ই নেই, আইনগত অধিকারও রয়েছে। চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ১৪০ ধারা অনুযায়ী, প্রযোজ্য শর্তে নিজের পুরো দায় পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে পাওনাদারের সংশ্লিষ্ট অধিকার গ্যারান্টারের কাছে যেতে পারে। একই আইনের ১৪৫ ধারায় আইনসম্মতভাবে পরিশোধ করা অর্থ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার ভিত্তি রয়েছে। আবার গ্যারান্টারের সম্মতি ছাড়া ঋণচুক্তির কিছু শর্ত বদলালে দায় প্রভাবিত হতে পারে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দলিল ও আইনের বিধান যাচাই জরুরি।

গ্যারান্টার হওয়ার আগে কী যাচাই করবেন?

প্রথমে ঋণের মোট পরিমাণ, মেয়াদ, কিস্তি, সুদের ধরন এবং অতিরিক্ত খরচ জেনে নিন। এরপর নিজের গ্যারান্টি নির্দিষ্ট ঋণের জন্য, নাকি ধারাবাহিক দায় তৈরি করছে, তা বুঝুন। ঋণগ্রহীতার প্রকৃত পরিশোধসক্ষমতা, বিদ্যমান দায় এবং সম্ভাব্য আর্থিক পরিবর্তনও বিবেচনা করুন। ফাঁকা ফরমে স্বাক্ষর করবেন না; পূরণ করা দলিলের অনুলিপি সংগ্রহ করুন। জটিল শর্ত থাকলে স্বাধীন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

একটি সহজ উদাহরণে দায় বুঝুন

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং তাঁর বন্ধু গ্যারান্টার হয়েছেন। কিছু কিস্তি দেওয়ার পর ঋণগ্রহীতা আর পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংক তখন হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা দাবি করতে পারে। গ্যারান্টারের দায় পাঁচ লাখ টাকার পুরো অঙ্ক হবে, নাকি পরিশোধিত টাকা বাদ দিয়ে প্রযোজ্য বকেয়া, তা নির্ভর করবে হিসাব ও চুক্তির ওপর। একই টাকা ব্যাংক দুবার আদায় করতে পারে না।

ব্যাংকের নোটিশ পেলে করণীয়

নোটিশ পাওয়ার তারিখ এবং পাঠানোর মাধ্যমের তথ্য সংরক্ষণ করুন। ঋণচুক্তি, গ্যারান্টি ফরম, কিস্তির হিসাব ও দাবিকৃত অর্থের বিবরণ সংগ্রহ করুন। ২০২৬ সালের অভিন্ন ফরমে নিবন্ধিত ডাকযোগে পাঠানো নোটিশ সম্পর্কেও শর্ত রয়েছে। হিসাবে অসংগতি থাকলে ব্যাংকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান। আদালতের সমন বা নোটিশ পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনজীবীর সহায়তায় জবাব দিন এবং সব সমঝোতার লিখিত প্রমাণ রাখুন।

ব্যাংক লোনের গ্যারান্টার নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. গ্যারান্টার হলে কি নিজের পকেট থেকে কিস্তি দিতে হয়?

ঋণগ্রহীতা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে সাধারণত গ্যারান্টারকে নিজে কিস্তি দিতে হয় না। কিন্তু ঋণগ্রহীতা চুক্তি ভঙ্গ করে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী দায় তৈরি হতে পারে। নিজের দায়ের পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট দলিল পড়তে হবে।

২. আত্মীয় না হলেও কি গ্যারান্টার হওয়া যায়?

গ্যারান্টার হওয়ার জন্য সব ক্ষেত্রে আত্মীয় হওয়া আইনগত শর্ত নয়। ব্যাংক সম্ভাব্য গ্যারান্টারের পরিচয়, আর্থিক সক্ষমতা এবং নিজস্ব ঋণনীতির ভিত্তিতে যোগ্যতা যাচাই করতে পারে। তাই পরিচিত ব্যক্তি গ্যারান্টার হতে পারবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।

৩. গ্যারান্টারের স্বাক্ষর কি শুধু আনুষ্ঠানিকতা?

একেবারেই নয়। ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ফরমে স্বাক্ষর ঋণসংক্রান্ত আইনগত অঙ্গীকারের অংশ। ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে এর ভিত্তিতে ব্যাংক পাওনা দাবি করতে পারে। এ কারণে ফরম না পড়ে শুধু সম্পর্কের খাতিরে স্বাক্ষর করা ঝুঁকিপূর্ণ।

৪. গ্যারান্টার কি ইচ্ছা করলেই দায় থেকে সরে যেতে পারেন?

ইতিমধ্যে নেওয়া ঋণের দায় সাধারণত একতরফা ঘোষণায় শেষ করা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিন্ন ফরমে ব্যাংক ও গ্যারান্টারের লিখিত সমঝোতায় গ্যারান্টি বাতিলের ব্যবস্থা রয়েছে। ধারাবাহিক নিশ্চয়তার ভবিষ্যৎ লেনদেন সম্পর্কে চুক্তি আইনে পৃথক বিধান আছে।

৫. গ্যারান্টারের বিরুদ্ধে কি ঋণ আদায়ের মামলা হতে পারে?

হ্যাঁ। অর্থ ঋণ আদালত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টারকে মূল ঋণগ্রহীতার সঙ্গে মামলায় বিবাদী করা হয়। তবে মামলা হওয়া মানেই ব্যাংকের দাবি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন নয়। আদালত দলিল ও আইনি বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বিচার করে।

৬. ব্যাংক কি গ্যারান্টারের সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে?

আদালতের ডিক্রি কার্যকর করার পর্যায়ে প্রযোজ্য আইন মেনে গ্যারান্টারের সম্পত্তিও আদায় প্রক্রিয়ায় আসতে পারে। আইনে যতদূর সম্ভব প্রথমে ঋণগ্রহীতার সম্পত্তি বিবেচনার ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে দ্রুত নথি পর্যালোচনা করা উচিত।

৭. ঋণের কিছু টাকা শোধ হলে কি গ্যারান্টার মুক্ত হন?

শুধু আংশিক টাকা পরিশোধ করলেই গ্যারান্টির দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না। ২০২৬ সালের অভিন্ন ফরমেও এ বিষয়টি উল্লেখ আছে। আংশিক পরিশোধের পর হালনাগাদ বকেয়া হিসাব যাচাই করতে হবে; সুদ ও প্রযোজ্য খরচও থাকতে পারে। পুরো ঋণ নিষ্পত্তির পর ব্যাংক থেকে লিখিত নিশ্চয়তা ও গ্যারান্টি দলিল ফেরত নেওয়া উচিত।

৮. ঋণের শর্ত বদলালে গ্যারান্টারের কী হবে?

চুক্তি আইনের ১৩৩ ও ১৩৫ ধারায় নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা সমঝোতায় গ্যারান্টারের সম্মতির গুরুত্ব রয়েছে। ২০২৬ সালের অভিন্ন ফরমেও ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো বা ঋণচুক্তির শর্ত পরিবর্তনের আগে গ্যারান্টারের সম্মতি নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই পরিবর্তিত চুক্তি ও নিজের দেওয়া সম্মতির লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

৯. গ্যারান্টার টাকা পরিশোধ করলে কি ঋণগ্রহীতার কাছে ফেরত চাইতে পারবেন?

গ্যারান্টার আইনসম্মতভাবে যে অর্থ পরিশোধ করেন, চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ১৪৫ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে তা ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ফেরত চাইতে পারেন। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৬(৫) ধারায় আদালতের ডিক্রির দাবি পরিশোধ করা গ্যারান্টারের অনুকূলে ডিক্রি স্থানান্তরের বিধানও রয়েছে। অর্থ দেওয়ার রসিদ, ব্যাংকের হিসাব এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করুন।

১০. গ্যারান্টার হওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কী?

নিজেকে প্রশ্ন করুন, ঋণগ্রহীতা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দাবিকৃত অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য আপনার আছে কি না। পাশাপাশি গ্যারান্টির সীমা, মেয়াদ এবং অবসানের শর্ত পরিষ্কারভাবে বুঝুন। উত্তর অস্পষ্ট হলে স্বাক্ষর না করে আগে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নিন।

উপসংহার

ব্যাংক ঋণে গ্যারান্টার নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো পাওনা পরিশোধের অতিরিক্ত আইনগত নিশ্চয়তা পাওয়া। কিন্তু এই ভূমিকার সঙ্গে বাস্তব আর্থিক দায়ও যুক্ত থাকে। ঋণের শর্ত পড়া, নিজের সক্ষমতা যাচাই, নথি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা নেওয়া একজন সচেতন গ্যারান্টারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top