ইসলামী ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোন পাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

উচ্চশিক্ষার খরচ সামলাতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ইসলামী ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোন নেওয়ার উপায় খোঁজেন। তবে এখানে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রচলিত সুদভিত্তিক স্টুডেন্ট লোনের পরিবর্তে শরিয়াহভিত্তিক এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম পরিচালনা করে। এই সুবিধা শিক্ষা উপকরণ কেনা, ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি এবং অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত সেবার ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যায়।

তাই শুধু “আমি একজন শিক্ষার্থী” বললেই অর্থায়ন পাওয়া যায় না। শিক্ষার প্রকৃত খরচ, আবেদনকারীর বয়স, অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা, গ্যারান্টর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জামানতের বিষয়ও ব্যাংক বিবেচনা করে। সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে আবেদন প্রক্রিয়া অনেক বেশি পরিষ্কার হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমানো সম্ভব।

এই লেখাটি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রকাশিত তথ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিনিয়োগের হার, সীমা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এই লেখা সাধারণ তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত এবং এটি কোনো বিনিয়োগ অনুমোদনের নিশ্চয়তা বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরামর্শ নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে সর্বশেষ শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করুন।

ইসলামী ব্যাংকের স্টুডেন্ট লোন আসলে কী

যেটিকে সাধারণভাবে ইসলামী ব্যাংকের স্টুডেন্ট লোন বলা হয়, ব্যাংকের ভাষায় সেটি মূলত এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তার অভিভাবক শিক্ষা ব্যয়ের জন্য বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারেন। শিক্ষা উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে বাই-মুয়াজ্জাল এবং ভর্তি বা সেমিস্টার ফির মতো শিক্ষা সেবার ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফরওয়ার্ড ইজারা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফলে এটিকে সাধারণ নগদ ঋণের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

কারা এই শিক্ষা বিনিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন

ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কিমের আওতায় আবেদন করতে পারেন। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তার বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক আবেদনকারী হতে পারেন। শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর এবং আবেদনকারী বাবা-মা বা অভিভাবকের সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখানে একটি বাস্তব বিষয় মনে রাখা জরুরি। বয়সসীমার মধ্যে থাকা মানেই বিনিয়োগ নিশ্চিত নয়। ব্যাংক শিক্ষার প্রয়োজনের পাশাপাশি অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা এবং প্রস্তাবিত নিরাপত্তার বিষয়ও যাচাই করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কে মূল আবেদনকারী হবেন এবং কার আয় দেখানো হবে তা ঠিক করে নেওয়া উচিত।

কোন খরচের জন্য কত টাকা পাওয়া যেতে পারে

শিক্ষার স্তর এবং অর্থ ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিনিয়োগসীমা আলাদা। ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এইচএসসি বা সমমান পর্যন্ত শিক্ষা উপকরণের জন্য বিনিয়োগসীমা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। স্নাতক বা উচ্চতর পর্যায়ে শিক্ষা উপকরণের জন্য এই সীমা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা।

স্নাতক বা উচ্চতর পর্যায়ে ভর্তি অথবা সেমিস্টার ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমা রয়েছে। বিদেশে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সীমা ৩০ লাখ টাকা। তবে আবেদন করলেই সর্বোচ্চ পরিমাণ অনুমোদিত হবে এমন নয়। প্রকৃত শিক্ষা ব্যয়, পরিশোধক্ষমতা এবং ব্যাংকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে অনুমোদিত পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

বিনিয়োগের মেয়াদ ও পরিশোধ পরিকল্পনা

শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নেওয়া বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২ বছর। অন্যদিকে ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি বা অন্যান্য শিক্ষা সেবার জন্য মেয়াদ সাধারণভাবে শিক্ষার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে আরও ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে মোট মেয়াদ ৫ বছরের বেশি নয়। প্রকাশিত শর্তে আলাদা গ্রেস পিরিয়ডের কথা নেই। তাই পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর থেকেই কিস্তি শুরু হবে এমন ধারণা করে আবেদন করা উচিত নয়।

আবেদনের আগে পরিবারের মাসিক আয় থেকে বাস্তবে কত টাকা কিস্তি দেওয়া সম্ভব তা হিসাব করা দরকার। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ চাওয়া অনেক সময় সুবিধার পরিবর্তে ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।

বর্তমান রিটার্ন হার ও প্রসেসিং ফি

ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত শিক্ষা বিনিয়োগ স্কিমে বর্তমানে বার্ষিক ৮.৫ শতাংশ রিটার্ন হার উল্লেখ রয়েছে অথবা ব্যাংক সময় অনুযায়ী যে হার নির্ধারণ করবে সেটি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ আবেদন করার দিনের কার্যকর হার শাখা থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রসেসিং ফি অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের ০.৫০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর বাইরে দলিল, বন্ধক বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যয় তৈরি হলে সেগুলো সম্পর্কেও অনুমোদনের আগে শাখা থেকে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া ভালো।

জামানত ও গ্যারান্টরের বিষয়টি আগে বুঝুন

অনেক আবেদনকারী মনে করেন স্টুডেন্ট লোন হওয়ায় কোনো নিরাপত্তা প্রয়োজন হবে না। ইসলামী ব্যাংকের এই স্কিমে বিষয়টি এমন নয়। ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগেও ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, অভিভাবক বা গ্রহণযোগ্য অন্য ব্যক্তির গ্যারান্টি, আয়ের প্রমাণ এবং কিস্তির জন্য পোস্ট ডেটেড চেক প্রয়োজন হতে পারে।

২ লাখ টাকার বেশি অর্থায়নে নিরাপত্তার শর্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী লিকুইড সিকিউরিটির ওপর লিয়েন, চাকরির সুবিধার ওপর লিয়েন অথবা জমি, ভবন বা ফ্ল্যাটের মতো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের প্রয়োজন হতে পারে। বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রকাশিত শর্তে বন্ধক রাখা সম্পত্তির নিরাপত্তা কভারেজ অনুমোদিত অর্থের কমপক্ষে ১৫০ শতাংশ রাখার বিধানও রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক থেকে শিক্ষা বিনিয়োগ নেওয়ার সঠিক আবেদন পদ্ধতি

প্রথম ধাপ হলো আপনার শিক্ষার খরচ কোন শ্রেণিতে পড়ে তা নির্ধারণ করা। শুধু শিক্ষা উপকরণ কিনবেন, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বা সেমিস্টার ফি দিতে হবে এটি আগে পরিষ্কার করুন। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কাগজ, শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, ফি-সংক্রান্ত কাগজ বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের মূল্যসংক্রান্ত প্রমাণ প্রস্তুত রাখা ব্যবহারিকভাবে সহায়ক হবে। শাখা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।

এরপর মূল আবেদনকারী ও গ্যারান্টরের জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত নথি, ছবি, আয়ের প্রমাণ এবং পেশার প্রমাণ প্রস্তুত করুন। বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হলে সম্পত্তি বা অন্য নিরাপত্তার কাগজ আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ফর্ম ডাউনলোডের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা বিনিয়োগের পূর্ণ অনলাইন অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তাই নিকটস্থ ইসলামী ব্যাংক শাখার বিনিয়োগ বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

আবেদন দেওয়ার আগে যে প্রস্তুতি রাখা উচিত

আবেদনের আগে শিক্ষার প্রকৃত ব্যয়ের কাগজপত্র, আবেদনকারীর আয়ের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাগজ প্রস্তুত রাখা ভালো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি এবং যে পরিমাণ বিনিয়োগের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, তার সমর্থনে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র রাখা উচিত। প্রয়োজন হলে গ্যারান্টরের পরিচয় ও আয়ের প্রমাণও ব্যাংকে জমা দিতে হতে পারে।

প্রকাশিত সর্বোচ্চ সীমা দেখে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থের জন্য আবেদন না করে প্রকৃত শিক্ষা ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে জমা দিন। চূড়ান্ত অনুমোদন ব্যাংকের নিজস্ব যাচাই ও নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের নিশ্চিত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতিকে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করবেন না।

স্টুডেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৫ লাখ টাকার সুবিধা ও শিক্ষা বিনিয়োগ স্কিম এক নয়

ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সাক্ষরতা সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং হিসাবধারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য একক নামে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে অভিভাবকের পরিশোধ গ্যারান্টি প্রয়োজন হয়।

এই ৫ লাখ টাকার সুবিধাকে সরাসরি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়। উদ্দেশ্য, অর্থের উৎস এবং প্রযোজ্য শর্ত আলাদা হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোন সুবিধা প্রযোজ্য তা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে যাচাই করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

১. ইসলামী ব্যাংক কি সরাসরি স্টুডেন্ট লোন দেয়?

প্রচলিত অর্থে সুদভিত্তিক স্টুডেন্ট লোনের পরিবর্তে ইসলামী ব্যাংক শিক্ষা বিনিয়োগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এর আনুষ্ঠানিক নাম এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম। শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষা সেবার ধরন অনুযায়ী শরিয়াহভিত্তিক আলাদা বিনিয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

২. ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষা বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা কত?

সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা শিক্ষার ধরন ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে বিদেশে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীর ভর্তি বা সেমিস্টার ফির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য স্থানীয় উচ্চশিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত অনুমোদিত পরিমাণ ব্যাংকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।

৩. আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীর বয়স কত হতে হবে?

ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তার বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক আবেদন করতে পারেন। অভিভাবক আবেদনকারীর সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর।

৪. শিক্ষার্থীর নিজের আয় না থাকলে আবেদন করা যাবে কি?

শিক্ষার্থীর নিজের আয় না থাকলে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যাংকের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তার বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক আবেদনকারী হতে পারেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বাবা-মা, অভিভাবক, স্বামী বা স্ত্রী কিংবা ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ও আয়ের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

৫. এই বিনিয়োগ দিয়ে কী ধরনের শিক্ষা ব্যয় পরিশোধ করা যায়?

বই এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার পাশাপাশি ভর্তি ফি, সেমিস্টার ফি এবং অনুমোদিত শিক্ষা সেবার ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে এই সুবিধা ব্যবহার করা যায়। আবেদন করার সময় অর্থ কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রস্তুত রাখা উচিত।

৬. শিক্ষা বিনিয়োগের রিটার্ন হার কত?

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক ৮.৫ শতাংশ রিটার্ন হার উল্লেখ রয়েছে, অথবা ব্যাংক সময় অনুযায়ী নতুন হার নির্ধারণ করতে পারে। তাই অনলাইনে দেখা হারকে স্থায়ী ধরে না নিয়ে আবেদন করার দিন শাখা থেকে কার্যকর হার নিশ্চিত করা উচিত।

৭. শিক্ষা বিনিয়োগ নিতে কি সম্পত্তি বন্ধক রাখা বাধ্যতামূলক?

সব পরিমাণের ক্ষেত্রে একই ধরনের বন্ধক প্রয়োজন হয় না। ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, আয়ের প্রমাণ ও পোস্ট ডেটেড চেকের মতো নিরাপত্তা থাকতে পারে। বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে ব্যাংক লিয়েন বা স্থাবর সম্পত্তির নিবন্ধিত বন্ধক চাইতে পারে।

৮. কত বছরের মধ্যে শিক্ষা বিনিয়োগ পরিশোধ করতে হয়?

শিক্ষা উপকরণের জন্য বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২ বছর। ভর্তি বা অন্যান্য শিক্ষা সেবার ক্ষেত্রে শিক্ষার মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ বছর পর্যন্ত সময় বিবেচিত হতে পারে, তবে সামগ্রিক মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।

৯. বিদেশে পড়াশোনার জন্য এই সুবিধা নেওয়া সম্ভব কি?

হ্যাঁ, ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত স্কিমে বিদেশে অধ্যয়নের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সীমা রয়েছে। তবে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত প্রযোজ্য নিয়মও মানতে হবে।

১০. আবেদন করার আগে কোন কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত

শাখায় যোগাযোগ করার আগে শিক্ষার ব্যয়ের প্রমাণ, আবেদনকারীর পরিচয় ও আয়ের তথ্য এবং প্রয়োজন হলে গ্যারান্টরের তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা বা সম্পত্তিসংক্রান্ত কাগজের প্রয়োজন হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জেনে নিন। ব্যাংক আবেদন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।

উপসংহার

ইসলামী ব্যাংক থেকে স্টুডেন্ট লোন সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ব্যাংকটি এই সুবিধা এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। শিক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ নির্ধারণ, যোগ্য আবেদনকারী নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় আয়, গ্যারান্টি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাগজ প্রস্তুত করা আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগসীমা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যাংকের যাচাই ও প্রযোজ্য নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে বর্তমান হার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কিস্তি ও নিরাপত্তার শর্ত জেনে নিন।

তথ্যসূত্র: এই লেখার তথ্য ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এডুকেশন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত ব্যাংকিং তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। ব্যাংকের শর্ত পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদন করার সময় হালনাগাদ তথ্য যাচাই করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top